• Mar 03, 2026
  • 3
  • 115
  • 1077
12 day ago |
All Level

'বাহ্যিক স্বাধীনতা' বনাম 'আত্মিক স্বাধীনতা'

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ এই জাতির বুকে যে কালোরাত্রি নেমে এসেছিলো তারই প্রতিকার স্বরূপ নিজেরা স্বাধীন হওয়ার এবং দেশটাকে স্বাধীন করার এক মহৎ আকাঙ্খার জন্ম হয়। আর সেই আকাঙ্খাই দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ আমাদেরকে উপহার দেয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখন্ডের - আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি 'বাংলাদেশ'। কত সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন নিয়েই না মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন। মাতৃভাষায় স্বাধীনভাবে কথা বলার স্বপ্ন, নিপীড়ন-নিষ্পেষণ থেকে সমাজের মানুষকে উদ্ধার করার স্বপ্ন, দেশটাকে স্বাবলম্বী-আত্মনির্ভরশীল করার স্বপ্ন, জীবনের স্বত:স্ফুর্ততাকে জিইয়ে রেখে জীবন যাপনের স্বপ্ন, ভয়হীন-নিরাপদ এক বাসস্থানের স্বপ্ন, জাতিকে উন্নত জীবন যাপনের একটি প্লাটফর্ম উপহার দেয়ার স্বপ্ন! এরকমই আরো হাজারো স্বপ্নকে বুকে লালন করে আমাদের ভালো থাকার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে যারা অকাতরে নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়ে গেলেন তাদের ত্যাগের মহীমা ও হৃদয়-আত্মার উত্তোরণ যে কোন পর্যায়ের ছিল সেটা উপলব্ধি করার মত মানসিক যোগ্যতা বর্তমান সময়ের অনেক মানুষের মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর সেই যোগ্যতার অভাব আছে বলেই আজ আমরা দেশটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে দেয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত। আমরা ঘুষ-দুর্নীতিকে নির্মূল করার পরিবর্তে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেসব কাজকে প্রশ্রয় দেয়ায় ব্যতিব্যস্ত, সমাজে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে একটি জ্ঞান-নির্ভর উন্নত জাতি গঠনের পরিবর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কালচার তৈরী করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধবংসের দারপ্রান্তে উপনীত করতে উৎসুক, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় সেবার পরিবর্তে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিকে প্রাধান্য দিতে আগ্রহী! এভাবে সমাজের প্রায় প্রত্যেকটা জায়গাতেই সেই মানসিকতার লোকজনের বিচরণ যাদের পক্ষে এই সত্যটা কখনোই উপলব্ধি করা সম্ভব হবে না যে, মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোন ধরনের 'আত্মিক স্বাধীনতা' অর্জন করার কারণে নিজেদের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? আমরা 'স্বাধীনতা' 'স্বাধীনতা' বলে যে চিৎকার-চেঁচামেচি করি, এর দ্বারা বেশীরভাগ সময় আমরা বাহ্যিক স্বাধীনতাকে বুঝি এবং সেটাকে এনজয় করতে ও সেটা নিয়ে পড়ে থাকতেই পছন্দ করি। মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা হলো 'আত্মিক স্বাধীনতা' অর্জন। এটা যে কি জিনিস সেটাই আমরা অনেকে বুঝি না - অর্জন করা তো অনেক দূরের কথা! মুক্তিযোদ্ধারা সেটা অর্জন করতে পেরেছিলেন বলেই আজকে আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। তারা সেই স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন বলেই নিজেদের স্বার্থের কথা না ভেবে অন্যের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মধ্যে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতাকে খুঁজে পেয়েছিলেন। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির উত্তোরণ কবে ঘটবে? কবে আমরা বুঝবো যে, 'বাহ্যিক স্বাধীনতা' নয় 'আত্মিক স্বাধীনতা' অর্জনই আমাদের আসল লক্ষ্য? সীমাহীন সমস্যায় জর্জরিত একটি দেশ যেমন আমাদের এই বাংলাদেশ, ঠিক তেমনি পৃথিবীর বুকে অসীম ও অফুরন্ত সম্ভাবনায় ভরা কোন দেশ যদি থেকে থাকে সেটাও হচ্ছে আমাদের এই 'সোনার বাংলাদেশ'। "একদিন আমাদের এই জয় হবেই হবে। 'আত্মিক স্বাধীনতা' অর্জন করে একদিন আমরা দেশটাকে সত্যিই সোনার বাংলাদেশে পরিণত করতে পারবো।" এই প্রত্যাশাকে বুকের গহীনে ধারণ করে বেঁচে আছি এতোদিন। ২০২৪ সালে এসে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' ও ছাত্র-জনতার উদ্যোগে এবং দেশের আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণে এই সফল গণঅভ্যুত্থানের নায়ক বর্তমান প্রজন্মের তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আমাদের এই প্রাণপ্রিয় দেশ রক্ষা ও দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে দেখে সেই তরুণদের চোখে-মুখে আমি আবার ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সেই 'আত্মিক স্বাধীনতা'-কেই খুঁজে পেয়েছি। আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যেভাবে জেগে উঠেছে তা সারা বিশ্বের বুকে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তরুণ নেতৃত্বের এই সৎ ও নির্ভীক অগ্রযাত্রা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ। তাদের হাতে হাত রেখে সকলে মিলে আমরা গড়বো এক নতুন বাংলাদেশ, ইনশা'আল্লাহ।